‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’ কেন ভাইরাল, প্রশ্ন বিজেন্সের

ঢাকার ইন্টারনেটভিত্তিক নারীদের পোশাক ও অলঙ্কার তৈরির প্রতিষ্ঠান বিজেন্সের ডিজাইন করা টি-শার্ট পরে মডেলিং করা কয়েকজন তরুণীর ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। ওই টি-শার্ট বাজারজাত করার উদ্দেশে মডেলিং করা হলেও তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকে আবার সেই টি-শার্টের লেখা ‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’ এডিট করে অনেক কিছু লিখে প্রচার করছেন।

গত ৪ এপ্রিল রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে “BJNS’ – বিজেন্স” এর ফেসবুক পাতায় ‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’ স্লোগান লেখা টি-শার্ট গায়ে নারীদের জনপরিসরে বিচরণের ১২টি ছবি (মডেলিং) আপলোড করা হয়। এরপর সেই ছবি নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোনা। ওই ছবি এখন কেন ভাইরাল, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আজ রোববার আরেকটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে বিজেন্সের ফেসবুক পাতায়।

ওই পোস্টটি এখানে তুলে ধরা হলো :

‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’…….

ভাইরাল করে দিয়েছেন, কেন?

অনেকেই এই অতি সাধারণ লাইন তিনটি নিতে পারেননি।

বাসে ব্লেড দিয়ে জামা কাটবার আগ মুহূর্তে যখন চল্লিশোর্ধ্ব লোককে ধরে ফেলি, রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে ইচ্ছাকৃত ধাক্কা, একজন বয়োবৃদ্ধের মাধ্যমে লাঞ্ছিত হয়ে যখন বাসে একাই প্রতিবাদ করছিলাম, সবাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ নিরব দর্শকের ভূমিকায়। ক্ষোভ প্রকাশ করতে নিজের গয়নায় এঁকেছিলাম লাইনটি।

এই লাইন লেখা গয়না, টি-শার্ট কিনে পরলেই এ ধরনের সমস্যার সমাধান হবে, তা আমরা একবারও বলতে চাইনি। গয়না, টি-শার্টের এই মেসেজ ধারণ করে পঁচে যাওয়া কিছু মানসিকতায় শুধু একটা ধাক্কা দিতে চেয়েছি আমরা।

ভিড়ের বাসে টাচ লাগতেই পারে। এমন অসংখ্য ভাইয়া, আংকেল আছেন, যারা খুবই সচেতন থাকেন, লাগলে স্যরি বলেন এবং সিটও ছেড়ে দেন, শ্রদ্ধা তাদের প্রতি। ভিড় বাসে বা ব্রেক কষলে যে ধাক্কা লাগে, তাও লাগুক। কিন্তু, যারা এই ভিড়ের নোংরা সুযোগ নিতে চান, তাদের জন্য ছিল এই পোস্টটি৷

বোরকা ও হিজাব পরা বন্ধু যখন বাসে নিগৃহীত হয়ে তাকে ‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’ হিজাব পিন এঁকে দেওয়ার অনুরোধ করেন, কেন করেছেন? পুড়িয়ে দেওয়া ফেনীর পর্দানশীন মেয়েটির ভাই এবার কোন সান্ত্বনা নিজেকে দেবেন? কেন তনুকে তার পর্দাও বাঁচায়নি ধর্ষণ থেকে, কেন দেড় বছরের মেয়ে শিশুটিও ধর্ষিত হয়? বলতে পারবেন?

কটা ট্রল করেছেন এসব নিয়ে? টি-শার্টের লেখা নিতে না পেরে ভাইরাল করে দিলেন। ধর্ষকের বিচার চেয়ে এমন তোলপাড় করছেন না কেন? কজন ধর্ষকের ছবি ভাইরাল করেছেন?

এত সাধারণ তিনটি বাক্যকে বিকৃত করে তা প্রচারের মহান দায়িত্ব নিয়েছেন তারাই, যারা মেয়েদের ৩৬-২৪-৩৬ ছাড়া আর কোনো চোখে মাপতে শেখেননি, তা সে যে পোশাকই পরা থাক না কেন।

চূড়ান্ত এডিটিং এক্সপার্টদের লিস্ট করা হচ্ছে, যারা ছবি বিকৃত করেছেন এবং যারা এগুলো প্রচার করেছেন এবং করছেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

৫ ও ৬ এপ্রিল BJNS-বিজেন্সের মেলা থাকার কারণে আমরা এ সংক্রান্ত অপপ্রচারগুলো নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারিনি। কিন্তু অসংখ্য সুচিন্তার শুভাকাঙ্ক্ষী এই অপপ্রচারগুলোর বিরুদ্ধে লিখেছেন, পোস্ট দাতাদের আইডি, স্ক্রিনশট আমাদের দিয়ে সহযোগিতা করছেন এবং যারা নিজেরাই এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন, ব্যবস্থা নিয়েছেন ব্যক্তিগতভাবে তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই আমাদের সহযোগিতা করার জন্য এবং পাশে থাকার জন্য।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!