রোগীর মৃত‌্যু নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা

দুপুর থেকে বন্ধ সদর হাসপাতালের চিকিৎসা, রোগীদের কেউ কাতরাচ্ছেন কেউ হাসপাতাল ছাড়ছেন!

দুপুর থেকে বন্ধ সদর হাসপাতালের চিকিৎসা, রোগীদের কেউ কাতরাচ্ছেন কেউ হাসপাতাল ছাড়ছেন!

আনছার হোসেন
সম্পাদক, কক্সবাজার ভিশন ডটকম

একজন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন এবং চিকিৎসক-নার্সদের মধ্যে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে চিকিৎসা পাচ্ছেন ইনডোর-আউটডোরের কোন রোগী। চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন রোগীরা। অনেকেই হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চলে গেছেন।

তবে গরীব রোগীরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। তারা চিকিৎসা না পেলেও সদর হাসপাতালে বেডে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। এতে পুরো হাসপাতালজুড়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতালে সরেজমিন পরিদর্শন এবং রোগী ও রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। এতে সর্বত্র নিন্দার ঝড় বইছে।

জানা গেছে, পেটের ব‌্যথা নিয়ে ভর্তি আনোয়ার হোসেন নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত‌্যুর ঘটনায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ‘ভুল চিকিৎসা’র অভিযোগ উঠে। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে এক সংঘর্ষ লেগে যায়। এই ঘটনার জের ধরে ওই রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সদের লাঞ্ছিত করেন। ওই সময় রোগীর স্বজন এবং ডাক্তার ও নার্সদের মধ‌্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনার পর থেকে সব ধরণের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। একই সাথে নার্সরাও সব ধরণের সেবা বন্ধ করে দেন।

মৃত আনোয়ার হোসেনের স্বজনরা কক্সবাজারের একটি অনলাইনকে জানিয়েছেন, সামান্য পেট ব্যাথা নিয়ে আনোয়ার হোসেন সদর হাসপাতালে এসেছিলেন। পরে উপর থেকে নিচে নেমে একটি ডাবও পান করেন। পূনরায় উপরে উঠে কর্তব্যরত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি। ওই মুহুূর্তে ডাক্তার ইনজেকশন পুশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান তিনি।

তাদের দাবি, এই ঘটনার পর কর্তব্যরত নার্সরা আনোয়ার হোসেনের চিকিৎসার ফাইল সরিয়ে ফেলেন। তারই জের ধরে মৃত আনোয়ার হোসেনের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের লাঞ্ছিত করে। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিও হয়।

ওই ঘটনার এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘নিহতে’র স্বজনদের অবরুদ্ধ করে রাখেন বলেও অভিযোগ তুলেন রোগীর স্বজনরা।

খবর পেয়ে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান গিয়ে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তারপর থেকে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

এদিকে চিকিৎসাধীন অন্য রোগী ও রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, ওই অপ্রীতিকর ঘটনা পর থেকে সব ধরণের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়; রোগীদের হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন চিকিৎসক ও নার্সরা। অনেক রোগীকে জোর করে বেরও করে দেয়া হয়।

চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অনেক মুর্মূষু রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এতে অনেকে বাধ্য হয়ে সদর হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চলে যান। কিন্তু মুমূর্ষু হওয়া সত্ত্বেও অর্থাভাবে অধিকাংশ রোগী হাসপাতালেই পড়ে থাকেন। এতে তাদের আর্তচিৎকার এবং আহাজারিতে হাসপাতালজুড়ে এক ভীতিকর ও অমানবিক পরিবেশ তৈরি হয়।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালজুড়ে বিরাজ করছে এক ভীতিকর পরিবেশ। বাধ্য হয়ে হাসপাতালে পড়ে থাকা রোগী ও রোগীর স্বজনের মধ্যে আতঙ্কের ছাপ। অনেক রোগী কাতরাচ্ছে হাসপাতালের বেডে। অনেকে অপেক্ষায় আছেন- কখন মিলবে চিকিৎসা। অনেক রোগী ও রোগীর স্বজনদের আহাজারি করতেও দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সুলতান আহমদ সিরাজীকে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন কল ধরেননি।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন আবদুল মতিন কক্সবাজারের একটি অনলাইন সংবাদমাধ‌্যমকে জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে বিস্তারিত জানতে তিনি ওই সাংবাদিককে তার অফিসে যেতে বলেন।

সচেতন লোকজন বলছেন, একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অস্বাভাবিক হলেও স্বজনরা একটু অস্বাভাবিক আচরণ করতেই পারেন। তার কারণে পুরো হাসপাতালের সেবা বন্ধ করে দেয়া কতটা অমানবিক কাজ তা কিন্তু ওই চিকিৎসক ও নার্সদের বুঝে আসছে না।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!