মানবতাবাদী জাসিন্ডা আর্ডেন ও তাঁর অজানা অধ্যায়

মানবতাবাদী জাসিন্ডা আর্ডেন ও তাঁর অজানা অধ্যায়

চলতি মাসের ১৫ তারিখ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে একজন উগ্র খ্রিষ্টান পন্থী দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০ জন মুসলিমকে হত্যার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেনের কর্মকাণ্ড তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহমর্মিতা এবং দৃঢ়তার অন্যতম নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

নিহতদের স্মরণে মাথা ঢেকে রেখে তিনি ইতোমধ্যেই ধৈর্য এবং পূর্ণ একত্রিত করণের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

তিনি আতঙ্ক গ্রস্ত বেঁচে যাওয়া মুসলিম এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার মুসলিমদের পরিবারের প্রতি উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা আমাদের অংশ। আমরা আপনাদের দু:খ অনুভব করি, আমরা আপনাদের সাথে ঘটে যাওয়া অবিচার অনুভব করি, আমরা একই সাথে ক্ষুধ এবং আমরা আপনাদের সাথে আমাদের সবকিছু ভাগাভাগি করে নেব।’

জাসিন্ডা আর্ডেন নিহত মুসলিমদের শেষ কৃত্য অনুষ্ঠানের যাবতীয় খরচ বহন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তার সরকার নিউজিল্যান্ডে সামরিক কায়দার সেমি অটোমেটিক বন্দুক নিষিদ্ধ করার কথাও ঘোষণা করে।

নিউজিল্যান্ডের আইনসভার নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় লাভ করা এই নেত্রীকে গণমাধ্যম সমূহ ‘Jacindamania’ নামে অভিহিত করে। তিনি ২০১৭ সালে সাধারণ নির্বাচনে জয় লাভ করে দেশটির ৪০তম প্রধানমন্ত্রী হন।

নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি ছিলেন কোনো জাতিকে নেতৃত্ব দেয়া বিশ্বের সর্ব কনিষ্ঠতম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং ক্ষমতায় থাকা কালীন সন্তান জন্ম দেয়া বিশ্বের দ্বিতীয় তম সরকার প্রধান। একই সাথে তিনি নিউজিল্যান্ডে তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।
তবে ২০১৭ সালে বার্তা সংস্থা ‘New Zealand Herald’ কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি নিজেকে অজ্ঞেয়বাদী বলে পরিচয় দেন।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে কোনো ধর্মের অনুসারী হিসেবে চিত্রায়িত করি না। তবে সকল ধর্মের অনুসারীদের প্রতি আমি গভীর সম্মান প্রদর্শন করি। একই সাথে যারা ধর্ম অনুসরণ করে না আমি তাদেরও সম্মান করি। আমি একজন অজ্ঞেয়বাদী।’
সেই সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, তিনি খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারী হিসেবেই বেড়ে উঠেছেন কিন্তু বর্তমানে তিনি তার ধর্মীয় বিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

এর পূর্বে জাসিন্ডা আর্ডেন নিউজিল্যান্ডের লেবার পার্টির সদস্যের সাথে কাজ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে মানবাধিকার কর্মী হেলেন ক্লার্কের সাথেও কাজ করেছিলেন যিনি পরে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

একসময় তিনি লন্ডন শহরে পাড়ি জমান আর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের একটি নীতি নির্ধারনী প্রকল্পে কাজ করেন।
২০০৮ সালে তিনি ‘International Union of Socialist Youth’ এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আর এর পরের বছর নিউজিল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি দেশটির আইনসভার সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন।

জাসিন্ডা আর্ডেন তার নির্বাচনী প্রচারণাকে ‘মার্জনা হীন ইতিবাচক’ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং তার এ মন্তব্যের পরিচয় পাওয়া যায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ধৈর্য এবং দুর্দান্ত চরিত্র দিয়ে নিউজিল্যান্ড শাসন করার মাধ্যমে।

এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে একজন প্রদর্শক মনোভাবের নেতা মনে করি না। আমি মনে করি আমি মানবতা প্রদর্শন করছি।’

সাম্প্রতিক নিউজিল্যান্ডের কঠিন পরিস্থিতি তিনি কিভাবে সামলাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জাসিন্ডা আর্ডেন বলেন, ‘আমি মনে করি এখনো মানবতার উপর আপনার সত্যিকারের বিশ্বাস রয়েছে এবং তা এখনো আমার মধ্যে বিদ্যমান।’
সূত্র: দি হিউম্যানিস্ট ডটকম।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!