জালিয়ার দ্বীপে হবে সাড়ে ৯ কিমি ক্যাবল কার লাইন

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদের তীরে ২৯০ একর জমিতে গড়ে উঠছে নাফ ট্যুরিজম পার্ক। মূল ভূখন্ডের সঙ্গে পার্কটিকে যুক্ত করতে তৈরি করা হবে সাড়ে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল কার লাইন। এটি স্থাপনের পরামর্শক সেবা পেতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। কারওয়ানবাজারে বেজার কার্যালয়ে  আয়োজিত এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ, চুয়েট ভিসি ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ জামান খান কবির ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ক্যাবল কার স্থাপনের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা এবং একটি কাঠামোগত নকশা প্রনয়ণ করবে চুয়েট। এটি নির্মাণের সময় চুয়েট সুপারভিশন ও মনিটরিং করবে। এসব শেষ করতে ৩৮ মাস সময় লাগবে। বেজার পক্ষে মহাব্যবস্থাপক শোহেলের রহমান চৌধুরী এবং চুয়েটের পক্ষে ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সির পরিচালক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চুক্তি স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টির পাশাপাশি বিশেষায়িত এবং বিশ্বমানের পর্যটন পার্ক তৈরি করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এসব পার্ক নির্মাণ করে পর্যটনশিল্প বাংলাদেশের একটি ব্র্যান্ড ইমেজ গড়তে এবং বৈচিত্র্যময় পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে বেজা সীমিত আকারে নাফ ট্যুরিজম পার্কের কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে। কক্সবাজারের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে এসব কার্যক্রমকে যুক্ত করতে হবে।

চুয়েটের ভিসি ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, নাফ ট্যুরিজম পার্কের ক্যাবল কার তৈরির পরিকল্পনা সফল করতে চুয়েট তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে এবং নিঃসন্দেহে এটি হবে দর্শনীয়, উপভোগ্য ও আকর্ষণীয় একটি স্থাপনা। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, ট্যুরিজম খাতের উন্নয়নের জন্য খাতভিত্তিক প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেজা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত কাজ করছে। এসব ট্যুরিজম পার্কে বিনিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সব স্তরের সহায়তায় বেজা খুব শিগগির পর্যটনশিল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ এবং পরিবর্তন আনতে পারবে। সূত্র জানায়, নাফ ট্যুরিজম পার্ক দেশের সর্বদক্ষিণে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদের তীরে অবস্থিত ডিম্বাকৃতির একটি দ্বীপ।

জালিয়ার দ্বীপ নামে এ দ্বীপে গড়ে উঠতে যাচ্ছে দেশের সর্বপ্রথম দ্বীপভিত্তিক পরিকল্পিত ট্যুরিজম পার্ক নাফ ট্যুরিজম পার্ক। নেটং পাহাড়ের কোলঘেঁষে ২৯০ একরের এ দ্বীপটিকে পর্যটন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে বেজা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ দ্বীপটিকে ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঝুলন্ত ব্রিজ, ৫ তারকা হোটেল, রিভার-ক্রুজ, সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের বিশেষ ব্যবস্থা, ভাসমান জেটি, শিশু পার্ক, ইকো-কটেজ, ভাসমান রেস্টুরেন্টসহ নানাবিধ বিনোদনের সুবিধা এ দ্বীপে থাকবে। পার্ক নির্মাণের জন্য মাটি ভরাটের কাজ চলমান রয়েছে, যার ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশ।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!