রোহিঙ্গা নারীদের মুখে মায়ানমারের নির্যাতনের কথা শুনলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

রোহিঙ্গা নারীদের মুখে মায়ানমারের নির্যাতনের কথা শুনলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

রোহিঙ্গা নারীদের মুখে মায়ানমারের নির্যাতনের কথা শুনলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গা নারীদের মুখে নির্যাতনের কথা শুনলেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত ও হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টা ৮ মিনিটের দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ হয়ে চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরে পৌঁছার পর প্রথমেই হারেছা বেগম (১০) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর সঙ্গে কথা বলেন।

ওই সময় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তাকে ‘কেমন আছ’, ‘তুমি কি লেখা-পড়া কর’, ‘কেন বাংলাদেশে পালিয়ে আসলা’ এমন কয়েকটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে জবাবে ওই রোহিঙ্গা শিশু হারেছা জানায়, সে ভাল আছে, লেখা-পড়া শিখতে চায়। তবে প্রাণের ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বলে জানায় সে।

তার পরনে সাদা টি-শার্ট, কালো প্যান্ট ও সাদা উড়না ছিল মাথায়। তবে সেখানে কোন সংবাদকর্মীদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। এমনকি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও ব্যবহার ভাল করেননি ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তারা।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি মাহাবুবুল আলম বলেন, দুপুরে চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি পৌছান। এরপর তিনি সেখানে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের পালিয়ে আসা নির্যাতানের বর্ণনা শুনেন। তিনি তিন ঘন্টা সেখানে সময় কাটান। পরে বিকেল পাচঁটার দিকে কক্সবাজারের উদ্দ্যেশে রওনা দেন।

রোহিঙ্গা নেতারা জানান, সোমবার দুপুরে গাড়ীর বহর নিয়ে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তাদের ক্যাম্পে আসেন। তারপর তিনি ক্যাম্পের জি, ই ও ডি ব্লকগুলো দেখেন।

এ সময় মায়ানমার সেনাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেশ কয়েকটি ঝুপড়ি ঘরে ঢুকে তাদের নির্যাতনের সকল কাহিনী শুনেন। সর্বশেষ ডি-ব্লকের একটি সেন্টারে ব্র্যাকের কর্মীর সঙ্গে কথা বলেন। এতে পাঁচজন রোহিঙ্গা নারীও উপস্থিত ছিলেন।
চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরে নেতা মো. জাবের বলেন, জাহানারা বেগম নামে এক রোহিঙ্গা নারীর ঘরে ঢুকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তার কাছ জানতে চান- তারা এখানে কেমন আছেন, কেন মায়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছেন? তার জবাবে ওই নারী বলেছিলেন, এখানে বেশ ভাল আছেন। তাঁরা নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে সে দেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বিচার চান এবং রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব নিয়ে ফিরতে চান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা জীবনে অনেক সেলিব্রেটির দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু এমন দুর্ব্যবহার কেউ করেনি। অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে থাকা ইউএনএইচসিআর’র কর্মকর্তা আমাদের কোন সদস্যকেও কাছে যেতে দেননি।’

তিনি সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি বেসরকারি বিমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে কক্সবাজারের ইনানীতে একটি তারকা হোটেলে বিশ্রাম নিয়ে দুপুরে টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবির পৌছান।

ইতিপূর্বে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইনে মায়ানমার বাহিনীর জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরুর পর সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা দলে দলে প্রাণভয়ে কক্সবাজারে পালিয়ে আসতে থাকলে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের ঘোষণা দেন। তবে তার সফরসূচি চূড়ান্ত হতে এক বছরের বেশি সময় লেগে যায়।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ২০১২ সালে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত হিসেবে নিযুক্ত হন। তারপর থেকে তিনি মানবাধিকার লংঘনের শিকার মানুষ, বিশেষ করে নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনের প্রতিরোধে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন।

গত বছরের ২১ মে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন বলিউড অভিনেত্রী ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তিনি টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর মনখালী ব্রীজের পাশে অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবির এবং টেকনাফের হারিয়াখালীতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের পথ দেখেন। সেখানে শিশুদের সঙ্গে সময়ও কাটান। জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে বাংলাদেশে আসেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের নামে মায়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে প্রাণ ভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেন। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার শিবির গুলোতে এখন দিন কাটছে তাদের।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!