তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসা

একটি ‘সবক’, একবছর ৮ মাসের অপেক্ষা!

একটি ‘সবক’, একবছর ৮ মাসের অপেক্ষা!

একটি ‘সবক’, একবছর ৮ মাসের অপেক্ষা!

এটি নিতান্তই একটি সাধারণ সংবাদ হতে পারতো। পত্রিকার পাতায় ছাপলে হয়তো তা কোন ভাবেই এক কলামের বেশি স্পেস দেয়ার সুযোগই নেই। সাধারণ একটি ‘সবক’ অনুষ্টান, সাধারণ মানুষের কাছে তার কোন গুরুত্বই থাকার কথা নয়! কিন্তু ব্যাপারটা আমার কাছে তেমনটা ছিল না, এটি ছিল একজন বাবার হৃদয়ের ভালোবাসা নিংড়ানো অনন্য অসাধারণ এক অনুভূতি। এই অনুভূতিকে তুলে ধরতে হলে একটি এক কলামের সংবাদ দিয়ে তা কখনোই ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই ব্যাপারটাকে অন্যভাবে তুলে আনতেই হলো!

আমি যেখানে বসে আছি তার একটু দূরে, ওই তো সাদা বকের মতো মানব ছানা গুলোর মাঝে আমার প্রাণের সন্তানটিও যে বসে আছে। মাথায় সাদা টুপি, গায়ে সাদা লম্বা জোব্বা আর পায়জামা। অন্যদের মতো তাকেও তো ‘বকপক্ষী’র মতোই লাগছে। মানুষকে কী ‘বকপক্ষী’র সাথে তুলনা করা যায়! হোক না কিছুক্ষণের জন্য নাহয় ওই ছানা গুলোকে ‘বকপক্ষী’ই বললাম।

সামনে বসা ‘কুরআনের বুলবুলি’ শতাধিক শিশু-কিশোরদের মাঝে ২১ জন অপেক্ষায় আছে, তারা এই বিশ্বজগতের ¯্রষ্টা মহান আল্লাহর বাণী পবিত্র কুরআনের ‘নাযেরা’ ও ‘হিফজে’র সবক নেয়ার। ওই একুশজনের মাঝে আমার প্রথম সন্তান মাত্রই ১১ বছরে পা দেয়া আবদুল্লাহ নূর হোসেনও বসে আছে। আমার বুকটিও কেন জানি দুরু দুরু কাঁপছে। এই তো কিছুক্ষণ পর আমপারা শেষ করে আমার ছেলেটিও কুরআনের প্রথম ‘সবক’টি গ্রহণ করবে, ‘আলিফ-লাম-মীম ….!’

দিনটি ছিল রোববার, ২৭ আগষ্ট ২০১৭ ইংরেজী বর্ষ।

একটি ‘সবক’, একবছর ৮ মাসের অপেক্ষা!

ওদিকে যাওয়ার আগে একটু পেছনে ঘুরে আসা যাক। আমার এই ছেলেটিকে (আবদুল্লাহ নূর হোসেন) সমাজের ‘সাহেবী’ শিক্ষা প্রতিষ্টান কিন্ডার গার্টেন থেকে তুলে এনে দেশের কুরআন শিক্ষার আধুনিক প্রতিষ্টান ‘তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসা’য় ভর্তি করে দিয়েছি ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। এই হিফযখানায় আসার আগে সে তিনটি বছর প্রথাগত ‘সাহেবী’ শিক্ষালয়ে কাটিয়ে এসেছে। সেখান থেকে এক লাফে তাকে তুলে এনেছি আল্লাহর রাহে।

ছোট প্রাণ, ছোট বয়স। মা-বাবাকে ছেড়ে একটি দিনও যার কাটেনি, সেই ‘রুদ্র’কে আমি তুলে দিলাম টুপি-পাঞ্জাবিওয়ালা হুজুরদের হাতে, যারা আমার ছেলেকে এই জগতের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ট নবী ও রাসূল হযরত মুহম্মদের (স.) উপর টানা ২৩ বছর ধরে নাজিল হওয়া আল্লাহ বাণী পবিত্র কুরআন নামের বিশাল বইটি মুখস্ত করে অন্তরে গেঁথে দেবেন।

আমি যখন স্কুল থেকে ছেলেকে নিয়ে আসছিলাম, তখন অনেকে অনেক ভাবেই আমাকে ভিন্ন কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমি তো চাই অন্য কিছু। আমার ছেলেটি শুধু দুনিয়াদারি নিয়ে থাকবে না। দুনিয়ার সাথে তার আখিরাতও পাওয়া দরকার। আমি যেমন চাই দুনিয়া ও আখিরাত একসাথে, ঠিক তেমনি আমার ছেলেকেও পৌঁছে দিতে চাই দুনিয়া ও আখিরাতের শেষ মঞ্জিলে।

ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে আসলাম। ভর্তি করে দিলাম তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসা, কক্সবাজার শাখায়। বাংলা, ইংরেজী, অংক কিংবা অন্য আরও সাবজেক্ট তার ভালো জানা। কিন্তু আরবী পড়তে পারলেও লেখা তো সে কখনই লিখেনি। যেটি তাকে নতুন করে শুরু করতে হবে এই মাদ্রাসায়। তাও আবার দ্বিতীয় শ্রেণী থেকেই।

কয়েক মাস যেতে না যেতেই আমাকে অবাক করে দিয়ে ছেলেটি এমন সুন্দর আরবি লেখা শুরু করলো, আমি অভিভূত হলাম। আমি সাথে সাথে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম। যে ছেলেটি একদিনের জন্যও আরবী হরফ লেখার প্র্যাকটিস করেনি তার হাতে কত সুন্দর হস্তাক্ষর!

এই দেখুন, আমার চোখে আনন্দাশ্রু চলে এসেছে। লোনা জলে টলটল করছে আমার দু’চোখ। শুকরিয়া, আলহামদু লিল্লাহ।

একটি ‘সবক’, একবছর ৮ মাসের অপেক্ষা!

কিছুদিন পর যেন একটু ধাক্কা খেলাম। মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানালেন, ‘রুদ্র’কে কোন ভাবেই আগানো যাচ্ছে না। পড়ায় সে মনযোগী নয়, আরবী পড়তে গিয়ে বারবার ভুল পড়ছে! তার সাথে থাকা বন্ধুরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, আর রুদ্র বারবারই পিছিয়ে নতুন কোন গ্রুপের সাথে যুক্ত হচ্ছে। আর সেই নতুন শিশুরাই আমাকে দেখলে অনুযোগ তুলছে, ‘আংকেল, রুদ্র তো আজও সবক দিতে পারেনি!’

মনে মনে কষ্ট পাচ্ছি, কিন্তু কোন ভাবেই মনকে বুঝ দিতে পারছি না। আমি জানি, আমার ছেলে ‘গর্দভ’ নয়। তার মতো এতো পরিস্কার ব্রেনের ছেলে আমি খুব একটা দেখিনি। কোন একটি ব্যাপার যদি সে একটু দূর থেকে দেখে তা সাথে সাথেই তার আয়ত্বে চলে আসে। শুধু একটু আড়চোখে দেখে নেয়। আর সেই ছেলেটিই কিনা মাদ্রাসায় ‘সবক’ দিতে পারছে না!

আমি কোন ভাবেই মনকে বুঝাতে পারছি না। ভোরে ছেলেকে মাদ্রাসায় দিয়ে যাই, আবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এসে বাড়ি নিয়ে যাই। সারাদিন সে এই মাদ্রাসাতেই থাকে। কিন্তু তার বন্ধুরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমার ‘রুদ্র’ যেখানে আছে সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে!

টিচারদের বারবার বললাম, ‘আপনারা একটু দেখেন, তার সমস্যা কোথায়?’ কিন্তু তাঁরা খুঁজে পেতে দুইটি কারণ বের করলেন। সে অমনযোগী ও পড়ার সময় না পড়ে বসে থাকে! এই সমস্যা কাটানোরও চেষ্টা করলেন টিচাররা। কিন্তু ওই যে, যেই কথা সেই কাজ। তার কোন পরিবর্তন নেই!

একটা সময় এসে ‘আমিনুল হিফয’ মাওলানা ইয়াহিয়া মানিক আমাকে জানিয়ে দিলেন, ‘আরেকটি মাস আমি নিজে তাকে দেখবো। তারপরও নাহলে এই ছেলে কুরআন হিফয করতে পারবে না!’

আমি মনে মনে ভেঙ্গে পড়লাম। তবে তিনি একটি আশ্বাস আমাকে দিলেন। মাদ্রাসার চট্টগ্রাম শাখা থেকে একজন শিক্ষক এসেছেন, তাঁকে আমার ছেলেকে দেখাবেন আর তার (রুদ্র) সমস্যা জানার চেষ্টা করবেন। ওই শিক্ষকের (নামটি কোন ভাবেই মনে করতে পারছি না) কাছে আমিও সাথে গেলাম। তিনি আমার ছেলেকে দেখলেন, কোথায় সমস্যা ‘আমিনুল হিফয’ সাহেবকে বললেন। আর আমাকে জানালেন, ‘কে বলেছে আপনার ছেলে কুরআন পড়তে পারবে না! মহান আল্লাহ কুরআনেই তো স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, তিনি (আল্লাহ) কুরআনকে সহজ করে দিয়েছেন।’

হুজুরদের কথায় এতোটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম যে, আল্লাহর এই বাণীটিই ভুলে গিয়েছিলাম। এই হুজুরের কথায় যেন আমি নতুন প্রাণ পেলাম। ‘তাই তো, এটি তো আল্লাহর বাণী, এটি পড়তে পারবে না এই কথা বিশ্বাস করাটাই তো গোনাহ।’

আমি আবারও নতুন উদ্যমে হুজুরদের অনুরোধ করলাম, ‘একটু দেখেন! আমি জানি, সে (রুদ্র) মনযোগ দিলেই পারবে।’

দিন যায়, মাস যায়। একেকটি ‘সবকে’র অনুষ্টান আসে। আমার ছেলের পালা আর আসে না! আমি অপেক্ষায় থাকি, ছেলেকে ধমকাই, তাকে ভয় দেখাই, ‘এবার নাযেরা নিতে পারলে আর তোমাকে বাড়ি নিয়ে যাবো না। এখানেই (মাদ্রাসা হোস্টেল) রেখে যাবো।’

দিন গুনতে গুনতে আরেকটি ‘সবকে’র পালা এগিয়ে এলো। আমি আমার ছেলেকে ‘চেপে’ ধরলাম, এবার (২৭ আগষ্ট, ২০১৭) নাযেরা নিতে না পারলে আর তোমাকে বাড়ি নেবো না! আমিনুল হিফয মাওলানা ইয়াহিয়া মানিক ভাইকে বললাম, ‘আপনি একটু আলাদা ভাবে কেয়ার নেন, নিশ্চয় সে পারবে।’

তিনিও নাযেরা ‘সবকে’র প্রায় দেড়সপ্তাহ আগে আমার ছেলেকে নিয়ে উঠে পড়ে লাগলেন। আমি ভোরে তাঁর হাতে ছেলেকে দিয়ে যাই, আর রাতে নেয়ার সময় তাঁর কাছে জানতে চাই, ‘হুজুর, কী বুঝছেন?’ তিনি এবার রেজাল্ট দিতে শুরু করলেন। জানালেন, আমার ছেলে পড়ায় মনযোগ দেয়ার চেষ্টা করছে। হুজুর এক লাইন পড়ালে সে পরের লাইনটিও পড়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। আলহামদু লিল্লাহ।

তারপরও যেন অপেক্ষার পালা শেষ হতে চাইছে না। এবার নয়, আগামিবার আবদুল্লাহ নূর হোসেনকে ‘সবক’ দেয়া হবে। আমিও হুজুরের এই প্রস্তাব মেনে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাইছিলাম। মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পথে তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদ্রাসার কক্সবাজার শাখার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কবি হাফেজ রিয়াদ হায়দার বললেন, ‘আপনার ছেলে তো কুরআনের সবক নিচ্ছে!’

একটি ‘সবক’, একবছর ৮ মাসের অপেক্ষা!

আমি বললাম, ‘এবারও হচ্ছে না।’ তিনি বললেন, ‘এবারই হবে।’ তিনি ঢাকা থেকে আসা তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল সাহেবকেও ব্যাপারটি জানিয়ে দিলেন। তিনিও তখন আমার সামনেই ছিলেন, তিনি আমার সাথে কুশল বিনিময় করছিলেন।

অধ্যক্ষ রিয়াদ হায়দার তাৎক্ষনিক আমিনুল হিফয সাহেবকেও বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বললেন। আর এভাবেই ২৭ আগষ্ট, ২০১৭ সালের সকালটি এলো।

মনে দ্বিধা আর সংশয় নিয়ে ভোরে ছেলেকে সুন্দর পোষাক পরিয়ে মাদ্রাসায় দিয়ে গেলাম। সকাল ১০টার দিকে তাদের ‘সবক’ অনুষ্টান হওয়ার কথা।

আমার ছেলেসহ ১৭ জন ‘নাযেরা’ ও ৪ জন ‘হিফয’ সবকের জন্য সাদা টুপি, সাদা জোব্বা আর পায়জামা পড়ে তিন সারি হয়ে বসে আছে মাদ্রাসার দ্বিতীয়তলায়। তাদের পেছনে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীরা। ওই তো, দ্বিতীয় সারির ডানদিকে আমারও ছেলেটিও ‘সবকে’র আশায় বসে সময় গুনছে। আহ, এই দিনটির জন্যই তো অপেক্ষায় ছিলাম।

একটুক্ষণ পর দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্টান হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্বেরাত বিভাগের প্রধান ক্বারী মাওলানা জহিরুল ইসলাম এই কঁচিকাঁচাদের মুখে কুরআনের ‘সবক’ তুলে দেবেন।

এই অনুভূতি কী এক কলামের একটি নিউজে চলে! আমিও চালাতে পারলাম না। মনের আকুতি-অনুভূতি গুলো ঢেলে দিলাম সকলের তরে।

প্রাসঙ্গিক-অপ্রাসঙ্গিক

আমি জানি, আমার ছেলের চেয়ে দুষ্টু ছেলে আর কেউ আছে বলে মনে হয় না! তার মানে এই নয় যে, সে গবেট কোন ছাত্র! যে ছেলে একবার দূর থেকে দেখে প্রযুক্তির জ্ঞানগুলো মুহুর্তেই নিজের করে নেয় সে কিভাবে কুরআনে পিছিয়ে থাকে তা আমার মাথাতেই আসে না।

তবে আমার কেন জানি বিশ্বাস, যে ছেলেটিকে একটি নাযেরা ‘সবক’ নিতে একবছর ৮টি মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। যে বারবার ‘ভুল’ পড়ে পিছিয়ে পড়ছে, আবার মনযোগ দিলেই সব পারছে সেই ছেলেটি যে হেলাফেলার কেউ হবে তা আমি বিশ্বাস করি না।

কুরআন যাঁর বাণী, সেই মহান আল্লাহর দয়া ও বরকতের প্রত্যাশা নিয়ে বলছি, ‘আমার কেন জানি মনে হয়, তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসার এই শাখা (কক্সবাজার) থেকে যারা ইতিপূর্বে ‘সবক’ নিয়েছে, ভবিষ্যতে যারা নেবে তাদের মধ্যেই আমার এই ‘ভুল পড়া’ ছেলেটিই হবে কুরআনের অন্যতম দক্ষ ‘হাফেয’ আর সবচেয়ে ভালো জানা কুরআন গবেষক। কারণ, তার মেধার ঠিকানা তো আমি জানি!

হয়তো দুষ্টুমি আর শয়তানের কুপ্ররোচনা এই ছেলেকে কিছুটা বিভ্রান্ত করছে। যখন বুঝতে শিখবে তখন তার মতো মনযোগী আর কেউ হবে না!

এখন শুধু মহান আল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছি, তিনি যেন আমার এই আশা, এই কল্পনা তাঁর নিজ হাতে পূরণ করে দেন।

হে আল্লাহ, তুমি আমার এই ছেলেকে মনোনীত করে নাও তোমার জন্য। তোমার কুরআনের কসম, আমি যেমন চাই দুনিয়া ও আখিরাত একসাথে, তেমনি আমার ছেলেও যেন থাকে দুনিয়া-আখিরাতের পথে। তুমি তাকে সরল পথ দেখাও।

আমিন, ছুম্মা আমিন।

একটি ‘সবক’, একবছর ৮ মাসের অপেক্ষা!

আবদুল্লাহ নূর হোসেন

কৃতজ্ঞতা

কারো অন্তর যখন ঈমানের কথা বলে, সেখানে দুনিয়াবি সব ঢেলে দিলেও তার মন ভরানো যাবে না। আমাকে যা কিছুই দেয়া হোক, আমার অন্তর কাঁদে সেই মহান স্বত্তার জন্য যিনি এই মহাবিশ্ব চরাচর সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন আমাদের সৃষ্টির সেরা হিসেবে। আর সেই মহান স্বত্তার কাছে পৌঁছাতে হলে তো কুরআনকে আঁকড়ে ধরতেই হবে। আমিও সেই চেষ্টায় আছি …। সেখানে আমার ছেলে আবদুল্লাহ নূর হোসেনও একজন সৈনিক, যে আমাকে ও আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের আখিরাতের পথের সন্ধান দেবে।

আর এই আখিরাতের পথের সন্ধানদাতাকে তৈরি করতে যারা পরিশ্রম করছেন তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসা কক্সবাজার শাখার অধ্যক্ষ হাফেজ রিয়াদ হায়দার, মাদ্রাসাটির সমন্বয়ক আবদুস শাকুর বাদশা, আমিনুল হিফয মাওলানা ইয়াহিয়া মানিক ছাড়াও সেই সকল শিক্ষক যারা আমার এই ‘অমনযোগী’ ছেলেকে পথে আনার চেষ্টা করেছেন আর করছেন তাদের সবার প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সকলের পরিশ্রম যেন আল্লাহ কবুল করেন, এই দোয়া আমার অন্তর থেকেই রইলো।

এই মুহুর্তে অনেকগুলো মুখ খুব মনে পড়ছে। ছেলেকে যখন ২০১৬ সালের শুরুতে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলাম তখনকার ‘আইয়ুব স্যারে’র কথা কখনো ভুলবার নয়। এই শিক্ষকটি ছাত্রদের ভালো পড়াতে পারতেন। কোন ছাত্রকে কিভাবে পড়া দিলে আয়ত্ব করতে পারবে তা ছিল এই শিক্ষকের জানা। যদিও এই শিক্ষকটি বেশিদিন এই মাদ্রাসায় থাকতে পারেননি।

তারপর ‘ওস্তাদজি’ হাবিবুল্লাহ, খোরশেদ, জমির, দেলোয়ার আর সর্বশেষ নূর হোসেন। এই শিক্ষকদের মধ্যে দুইজন শিক্ষক আছেন যারা পড়ান ভালো, কিন্তু ছাত্র ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলায় ছিল তাদের নিদারুণ অনাগ্রহ। কোন অভিভাবক এই দুই শিক্ষকের কাছে কিছু জানতে চাইলে ‘হু’, ‘হ্যাঁ’ জবাব ছাড়া তেমন কোন জবাব পাওয়া যেতো না। যদিও শিক্ষক হিসেবে এরা সকলেই ছিলেন দারুণ দক্ষ। মানুষের কিছু ভুল তো থাকতেই পারে!

এই মানুষগুলোর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এরাই তো আমার ছেলেকে আজ এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। তবে দীর্ঘ এই পথচলায় একজন মানুষের কথা না বললেই নয়, তিনি মাদ্রাসাটির সমন্বয়ক আবদুস শাকুর বাদশা। মাদ্রাসার প্রতিটি কাজে, প্রতিটি জিজ্ঞাসায় এই মানুষটির কখনোই আন্তরিকতার কমতি দেখিনি। আমার ছেলেটাকে একটু সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য এই মানুষটির চেষ্টার কোন কমতি ছিল না। যদিও মাদ্রাসার জেনারেল সাইডটিই দেখাশোনা করেন তিনি। বাদশা ভাই, আপনার প্রতিও আমার অশেষ শ্রদ্ধা।

লেখকঃ আনছার হোসেন, সম্পাদক ও প্রকাশক, কক্সবাজার ভিশন ডটকম এবং নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক সৈকত, কক্সবাজার।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!